ঢাকা: রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ছিনতাই এবং সশস্ত্র হামলার মতো অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের আতঙ্ক আরও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সম্প্রতি সংঘটিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা: ১. বনশ্রী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে স্বর্ণ ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা। ২. ধানমন্ডির শংকর এলাকায় ডাকাত আতঙ্কে মসজিদের মাইকে সতর্কবার্তা প্রচার। ৩. আদাবর শেখেরটেক এলাকায় রিকশাআরোহীর ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার খবর।
এই ঘটনাগুলো দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ: বনশ্রীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় রামপুরা থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ধানমন্ডির ঘটনায় হাজারীবাগ থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সন্দেহভাজনরা অস্ত্রধারী ছিল না। তবে এলাকাবাসীর উদ্বেগের কারণে মসজিদ থেকে সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছিল।
আদাবরের ঘটনায় ওসি এসএম জাকারিয়া জানান, ভিডিওটি বিশ্লেষণ করা হলেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
সরকারের কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল পরিচালিত হবে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের অভিমত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক জানান, সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে, যা নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অভিযান প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে এবং অপরাধ দমনে সকল মহলের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণের সরকারি ঘোষণা আশার সঞ্চার করলেও এর বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন