BNH DESK
২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষার আহ্বান আসামিপক্ষের

ঢাকা: ১৬ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় সরকারের গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যন্ত অপেক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম নিম্ন আদালতে বিস্ফোরক মামলার বিচারকাজ স্থগিত রেখে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং ইতোমধ্যে সাজা সম্পন্ন হওয়া আসামিদের মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন।

পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: একটি ভয়াবহ অধ্যায়

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়—একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা। হত্যা মামলার বিচার হাইকোর্টে সম্পন্ন হয়ে আপিল বিভাগের শুনানির অপেক্ষায় আছে, তবে বিস্ফোরক মামলার বিচার এখনো নিম্ন আদালতে চলছে।

হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর বিচারিক আদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করেন। ২৭৮ জন খালাস পান।

২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন দেয়, ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় এবং ৪৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

এই মামলায় উচ্চ আদালতে খালাসপ্রাপ্ত ও সাজা কমা ৮৩ জনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে, একইভাবে আসামিপক্ষও আপিল করেছে।

তদন্ত কমিশন গঠন ও কার্যক্রম

সরকার গত ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে, যার সভাপতিত্ব করছেন বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান।

কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে:

  • পিলখানায় সংঘটিত ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান
  • হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠী চিহ্নিত করা
  • দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করা
  • মামলার তদন্তে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া অপরাধীদের চিহ্নিত করা

আসামিপক্ষের দাবি

আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিস্ফোরক মামলার ১৩০০ সাক্ষীর মধ্যে ২৮৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। কমিশন যখন নতুন করে তদন্ত করছে, তখন বিচারকাজ স্থগিত রাখাই যুক্তিসঙ্গত।”

তিনি আরও বলেন, “যারা হত্যা মামলায় খালাস পেয়েছেন এবং যাদের সাজা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত। কমিশনের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত রাখা উচিত।”

তিনি উল্লেখ করেন, ভিকটিম পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যেখানে তৎকালীন সরকারপ্রধানসহ অনেকের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

“সবদিক বিবেচনা করে আপিল বিভাগকে একটি গঠনমূলক আদেশ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে,” বলেন আমিনুল ইসলাম।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

Facebook (Meta): বিশ্বের বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানির উত্থান, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

Apple Inc.: বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান গ্রেপ্তার

দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার সংক্রমণ শনাক্ত

দুদিনের মধ্যেই সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে বের হতে না পেরে চারজনের মৃত্যু: ফায়ার সার্ভিস

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নাম পরিবর্তন

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: রাখাল রাহার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা

একটা পলাতক দল অস্থিতিশীল করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে: বিবিসি বাংলাকে ড. ইউনূস

এলপি গ্যাসের দাম কমলো

১০

ডাল, আটা-ময়দায় ভ্যাট প্রত্যাহার

১১

মৃত্যুর আগে আর আ. লীগ করব না: কামাল আহমেদ মজুমদার

১২

সংসদীয় সীমানা নির্ধারণে জনসাধারণের আবেদন প্রাধান্য দেবে ইসি

১৩

লুটপাটের টাকা এনে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হোক: জামায়াতের নায়েবে আমির

১৪

রাখাইনে সংঘাত: উখিয়া-টেকনাফে ঢুকেছে আরও অর্ধলাখ রোহিঙ্গা

১৫

ডিজিএফআই’র সাবেক প্রধান সাইফুলের বাসা থেকে আড়াই কোটি টাকা জব্দ

১৬

খালেদা জিয়ার খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি সোমবার

১৭

কর্মবিরতিতে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা

১৮

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে রিভিউ শুনানি ৮ মে

১৯

ভোটসন্ত্রাস করে ব্যক্তি-দল কারও জন্য ভালো হয় না: সিইসি

২০